Saturday, August 1, 2020

অপেক্ষায়

অপেক্ষায়
              সঞ্জিত  দাস
জানি না কোন্ পথে বাঁক নেবে দৃশ্য
আবার কী পাব দেখা দাস মিশ্র 
সুন্দর ছায়াঘেরা প্রকৃতির বনতল
দীঘিতে ফুটে থাকা পূর্ণ শতদল?
মানুষ হাসবে কবে প্রাণোচ্ছল ?
দাঁড়াবে বুক উঁচিয়ে স্বীয় মনোবল ?
আশা ছিঁড়ে হয়ে গেছে বন্দীদশা 
ঘরে বসে কাজ নেই মারছ মশা ?
কবে সে ছাড়বে বাসা?
উত্তর মেলেনি এখনও খাসা।
চিন্তায় ভাঁজ পড়ে কপালে
হাওয়া নেই নৌকার পালে,
গতিহীন হলে পথে আঁধার নামে
অশুভের হাতছানি থাকে ডানে বামে।
ফুঁসে ওঠা বহ্নির ভয়াল হলকা
 সবকিছু তছনছ যেন সব পলকা।
সাজানো ভুবন হয় ক্ষতবিক্ষত
তবুও নাছোড়বান্দা জাগে অবিরত।
ফণা তুলে দিতে চায় বিষ
মানুষ শান্তির খোঁজে অপেক্ষায় অহর্নিশ।

মূর্খেরও অধম

            মূর্খেরও অধম
                 সঞ্জিত দাস
শিক্ষিত হয়ে তবু মূর্খেরও অধম
এরা যদি থাকে তবে বিপর্যয় চরম।
পদ পেয়ে লাফানো,উত্যক্তের অভিসন্ধি
কারাগারে নিয়ে গিয়ে করে দেয় বন্দী ।
মস্তক চাপে চাপে হয় চিঁড়ে চ্যাপ্টা
ভাবা ছিল যা,পায়নি তা রূপটা।
ইচ্ছার বাহু ভেঙে করে দেবে লোপাট
বাইরে বের করে দিয়ে দেবে কপাট।
ভাঙা ঘরে জ্যোৎস্নার পড়ে খুব আলো
তোমরা প্রাচীর গড়ে থাকো খুব ভাল।
নিয়মনীতির বুলি আর না শোনাও
নরকের পথ ধরে যাও চলে যাও।
অটল অনড় সেই প্রাচীন আসুক
একটু সময় নিয়ে প্রজন্ম ভাবুক।
করুণ চোখের তারা পেয়ে যাক শান্তি
ঘুচে যাক আছে যা কিছু ভ্রান্তি। 
আর কতদিন চেপে থাকবে সে কান্না?
তোমরাই পাত পেড়ে খেয়ে যাবে রান্না?
প্রভুর আশীর্বাদে হোক করা  আজ অভিযোগ 
বিলীন হয়ে যাক থাকা শত দুর্ভোগ। 

নিধু পাল

নিধু পাল
                    সঞ্জিত দাস
নিধুবাবু গাছ কিনে রেখেছিল বর্ষায়
দু বছর বাদ এসে শুধু গর্জায়---
‘ ভরা বাগান খালি কেন,গাছ কোথায়?
কোন চোর চুরি করে রেখেছে স্ব-কব্জায়।
খুঁজে পেলে তার আর নেই ক্ষমা,
প্রতিটি কাঠের কণা দিতে হবে জমা।’
অশ্লীল ভাষাসহ বলে যায় বারবার
আমান্য হলে হবে তার ধ্বংস সংসার।
অভিসন্ধি তার মনে করা খোঁজ অনুসন্ধান
যদি মেলে চোরেদের সঠিক পরিসংখ্যান।
পাশাপাশি আছে যারা তারা নাকি চোর
গুনে গুনে ওয়ান্ টু থ্রি ফোর।
এই বলে যেতে চায় সে বাড়ি ফিরে
বেরিয়ে বাড়ির লোক তাকে এসে ঘেরে।
তুমুল ঝগড়া হয় পাড়া জাগে চিৎকারে
ছোট থেকে হয়ে ওঠে বড়ো আকারে।
ঝড়ে ভেঙে গাছগুলি পড়ে যায় ঘরে
তখন পড়েনি সাড়া নিধু পালের হাড়ে।
গ্রামবাসী গাছ কেটে তাই করে সাফ
নিধুবাবুর বুকে জমে আজ তাই তাপ।
করাৎ হাতে মারতে আসে তেড়ে
কেটে ছুঁড়ে ফেলবে বলে ভাগাড়ে।
এই নিয়ে বচসা জমে উঠে খুব
দ্যাখোনি যারা বুঝবে না তার রূপ। 

পানাচোর ফানু

পানাচোর ফানু
                  সঞ্জিত দাস
পানাচোর ফানুরাম পানাচুরি ছাড়ে না
বোঝালেও বারবার করে অবমাননা।
ছিনতাই ছেড়ে সে আজ পানাচোর
পুকুরের ধার ঘেঁষা তার একখানা ঘর।
পানা গেঁথে গেঁথে হয়েছে তা নির্মাণ
পানাপুর থেকে তাই পেয়ে গেছে সম্মান।
তাজ্জব বনে গেছে যারা সব দেখেছে 
তেতলার ঘরখানা পানা দিয়ে ছেয়েছে।
‘ হেলে দোলে তবু কেন পড়ে না ’
জিগ্যেস করে জিরেচোর হানু মান্না।
মুখে নেই রা কোন চারিদিকে ছুটছে
কে জানে কী সে স্বপ্ন বুনছে।
পানা জমা থাকে যদি কোন পুকুরে
আনবে সে টেনে ঠিক রাত-দুপুরে।
তা বলে তাকে পাগল বোলো না
পানাতে মাথা গুঁজে জুড়ে দেবে কান্না।

Saturday, June 20, 2020

বাঁচার উপায়

কবিতা --বাঁচার উপায়
                  বাঁচার উপায়
                   সঞ্জিত দাস

স্মিত হাসে আর চোখ রাঙায়
বহু বিপদ হাত বাড়ায়
না জানি বাঁচার কোন্ উপায়!

বয়ে যায় নদী তার মতো
ক্ষয়ে ক্ষয়ে ভূমি হয় ক্ষত
তার পায়ে আজ প্রাণ নত!

হিড়িক রসদ খোঁজার
যথার্থ হোক আহার
ভাঙুক বাঁধ শঙ্কার।

কালোর পরে আলোর আশ
অটুট মনে করুক বসবাস
ডুবুক পাহাড় জমা হা-হুতাশ।

গরীবের ঘরে জমা জল
কাড়বে না মনের বল
উঠে দাঁড়াবে হবে সফল।

আঁটকে রাখা শয়তানটা,
হাস্যময় জীবনের মন্ত্রটা
কেড়ে ক`দিন রাখবে নিজের জিম্মায় --
প্রাণের জোয়ার জাগবে
ভাগবে সে ভাগবে
আসবে সুদিন নিয়ে বাঁচার উপায়।


Tuesday, December 31, 2019



নববর্ষ
সঞ্জিত দাস
এল এল এল নববর্ষ
নব আভরণে,
প্রতিটি জীবনে কী এনেছে
কে জানে ?
আশার আশায় বসে সবাই
ছিল অপেক্ষায়,
হাসিমুখে স্মরণ রেখে পুরানোকে
দিয়েছে বিদায়।
ভালো কাটুক প্রতিটি ক্ষণ
এইতো কামনা,
ভাঙুক বাধা,সফল হোক
সব সাধনা।
বন্ধন হোক দৃড়, নিষ্কলুষ
হোক মন,
ভালোবাসার মন্ত্র উচ্চারিত হোক
হোক যতন্।
সম্প্রীতি গড়ুক সৌধ,হোক
দ্বেষের পতন,
শান্তির আবহ থাকুক,এড়িয়ে
সংঘর্ষের অন্বেষণ।
হাতে রেখে হাত এগিয়ে
চলো আবার,
এভাবেই গড়ে তুলব আমরা
সুখের সংসার। 

Friday, November 15, 2019


@বিভাগ - কবিতা
@কবিতা - কিছু শব্দ
@কবি - সঞ্জিত দাস
@তাং - ০৪/১১/২০১৯

                  কিছু শব্দ
                 সঞ্জিত দাস

কিছু কিছু শব্দ
করে যায় জব্দ
হাত চলে যায় তাই বুকে,
ব্যথা লাগে খুব
দেয় মন ডুব
শ্রান্ত দেহ পড়ে শুধু ঝুঁকে।
দিশেহারা হয়ে যায়
স্বপ্নেরা ভেঙে যায়
কিছু শব্দ সাজে এক লহমায়,
চোখ দুটি বিস্ময়ে
নিকষ আঁধারে ছেয়ে
ভুবনে বাঁচার সকল রসদ হারায়।