Tuesday, May 28, 2019

Anuronon

                  অনুরণন
            সঞ্জিত দাস
বারে বারে সেই কথা,
সেই সুর,
মুক্ত করো আমায়, আমি
 যে বেকুসুর,
সকলেই ব্যস্ত,সময়ের অভাব
স্বার্থসিদ্ধির জাঁতাকলে!
সত্য ঢেকে পাপী ওড়ে
পাখা মেলে!
সবাই জানে,জেনেও ঢাকে
অর্থের চোখরাঙানিতে,
নির্দোষী টানুক জেলের ঘানি
আমরাতো আনন্দেতে!
নির্দোষীর ওই কাঠগোড়ায় কাতর
আবেদনের অনুরণন;
প্রমানাভাবে; পুঁজিতলে ঢেকে যায়
ভাঙে আশ্বাসন!

Parabar

                 
              পারাবার
             সঞ্জিত দাস
পারাবার কত ব্যাপক, বিশাল--
কত তার আয়তন,
বুনেছে কত গুহ্য মায়াজাল
ঢেকেছে সোনা রতন।
কত প্রাণী তার অভ্যন্তরে
রহস্য রেখেছে ঢেকে,
পর্বতশৃঙ্খল তলিয়ে অনন্ত গহ্বরে
আঁধারের পরশ মেখে।
নিত্য কত জোয়ার -ভাটা
 আসে চলে যায়,
নিত্য কত মানবের বায়োডাটা
নিমেষে পারাবারে হারায়।
পারাবার কিছু নেয় না 
সবই দেয় ফিরিয়ে,
উত্তাল স্রোত বাধা মানেনা
জীবন নেয় ছিনিয়ে।
কত কত নৌকা, জাহাজ
তলিয়ে তার পেটে,
হারিয়ে গেছে জমকালো সাজ
ফিরেছে অবশেষে সমুদ্রতটে।
কত জলদস্যু ডাকাতি হেনেছে
বিদ্ধংস কত প্রাণ
পারাবার তার সাক্ষী থেকেছে
স্রোতে  স্রোতে বহমান।
কত জঞ্জাল মরা লাশ
বয়েছে শত শত
কত শিশুর শেষ নিঃশ্বাস
পারাবারে,মানবমনের অভিপ্রেত!
দূর হতে অগাধ জলরাশি
চোখে লাগে নীল
ফেনিল লবণ স্রোতে ভাসি
বিভীষিকায় মৃত্যুর শামিল।

Manob

                      মানব
             সঞ্জিত দাস
মানব কেন এত নিষ্ঠুর?
প্রাণহানীতে হৃদয় হয় না  বেদনাবিধুর!
স্ব -স্বার্থে উল্লাসে,আবেগে ভরপুর--
নিত্যদিন অমৃতহীন !
লম্ফঝম্প অবিরাম স্বর্গসুখের দরিয়ায়,
কেহ আগায় কি দুঃখীর শুশ্রুষায়?
বিদ্ধ সকলে আপন কামনায়!
দীর্ঘকাল অ --ক্ষীণ।
চতুর্দিকে জোয়ার,ভাটার অভাব---
মানবহৃদয় আস্ফালন লোভাতুর স্বভাব;
কলিকালের অবক্রমে পরিবর্তন হাবভাব;
বিষযুক্ত স্বাদহীন!
আঁধারে নারীহরণ ,দিবারাত যৌনসঙ্গম,
পেখম মেলে উড্ডয়নে যাযাবরী বিহঙ্গম,
চোরাচালানি ,ঘুষগ্রহণে ,দেশপ্রেমের বিপক্ষম
রাহাজানিতে শান্তিহীন!

Banglar robi

                 
                বাংলার রবি
                সঞ্জিত দাস
সাহিত্যের সর্ব শিখরে তব বিচরণ
কালির তুলি কাগজে গড়েছে কানন
ছন্দ,শব্দ,কথার পবিত্র অমৃত
এনেছে বাঁচার প্রেরণা,সুরের সংগীত
আর কিছু নেই বলার আমার
আশি বছরেই পূর্ণ সাহিত্য সম্ভার।

Gonika

                  গণিকা
            সঞ্জিত দাস

বিষেছে হৃদয়,বিষেছে দেহ
কত পুরুষের কামনা গৃহ!
অর্থ দিয়া লয়েছে লুটে
রসজাম সতীত্ব ধূলায় টুটে!
পুরুষের পর পুরুষ গুহ্যদ্বারে
প্রবিশেছে গোপনাঙ্গ আবিরাম ,দ্রুতহারে
ভরিছে তৃপ্তি সর্ব অঙ্গে,
ফিরিছে আপন সংসার বঙ্গে।
মরিছি আমি আপন জ্বালায়
অভাব অনটনের নিদারুণ বিভীষিকায়
সহধর্মিণী খেতাব ঘুচিছে আজি
পথের ধারে গণিকা সাজি!
কেহ গ্রহণিবে না মোরে
ঝরাপাতা সম সমীরণ তোড়ে
উড্ডয়িব হেথা কিম্বা হোথা
প্রভুর মনোমর্জি ;ঢেকে বিষণ্ণতা,
প্রত্যহ নিশীথে রক্তিম ফুলশয্যা
নববধূ রূপে সাজিয়ে সজ্জা!
সঞ্চিত স্বপ্নের বিসর্জনে ,শরণ
অর্থের কোশাগারে; নিরুপায় উদাসীন--
কলঙ্ক ,দুশ্চরিত্র অপবাদে সম্মানহীন
কাহারা দায়ী মোদের তরে
সমাজ, প্রেক্ষাপট না সরকারে?
বাতলিও সবারে আমি গণিকা!
আস্তাকুঁড়ের আঁধারে পতন যবনিকা !     

Bostibasi

                     বস্তিবাসী
               সঞ্জিত দাস
জীর্ণ গৃহে পশুর জীবন
বস্তিবাসী তাই,
চোখের তারায় আনেক স্বপন
পুড়ে ছাই।
ঘর সংসার স্নেহের বাঁধন
দৃড়তায়   মোড়া,
বিধাতার অশেষ আশীর্বাদ সাধন
অদৃষ্টই পোড়া।
চিলের চোখের শ্যেন দৃষ্টি
অভ্রান্ত ,প্রখর,
জাঁকিয়ে ঠোঁটে আপন কৃষ্টি
রুধির লহর !
খেতাব, উপাধি উচ্ছিষ্টের নামে
সভ্যের দয়াদানে,
সম্মুখে,পশ্চাতে ,ডাঁইনে ,বামে
আস্তাকুঁড়ের সম্মানে!
উচ্ছৃঙ্খলতাই দোসর যখন আজ
উপায়হীন আকাশ--
সভ্য জাঁকড়ে খোয়ায় লাজ
হাততালি,সাবাশ।
প্রফুল্লিত দর্শকদল চীৎকারে উল্লাসে,
তোয়াজের চর্বিতে,
গুহ্য রয় প্রতিবাদ নিমেষে
রক্তবর্ণ হুমকিতে!

Pashan Hridoy

               পাষাণ হৃদয়
               সঞ্জিত দাস
অভিমানী, হে আভিমানী রুপসী,
পাষাণ হৃদয় অধিকারিণী,
ছলচাতুরি চলবে কতদিন বলো
ওহে ও স্বপ্নচারিণী ?
মোর হৃদয় পিঞ্জরের বন্ধনে
বেঁধে হাঁটা দিলে,
থামো,থামো বলছি শোন
ভুল করেছ সমূলে।
মেনে নাও কলহের আবসানের 
হোক আজ হেস্তনেস্ত
পারবে না?সময় নেই?
আজ খুব ব্যস্ত?
জানি মায়াবিনী ,কূহকিনী ,ছলনাময়ী,
অর্থপিপাসী, যন্ত্রণাদায়ী সুন্দরী
তব হৃদয় গহীন জাললাকার,
রহস্যের ছয়লাপ সর্বাঙ্গভরি!

Bisher chaya

                 বিষের ছায়া
              সঞ্জিত দাস
প্রেমের  ছায়া, বিষের ছায়া
লাগলে হৃদয়ে বিপদ ভায়া!
তাই বলি থেকো দূরে,
একান্তে গেও গান সুরে,
মিশিও না এই আখরে,
দুঃখ মিলবে জীবন ভরে,
ভাঙবে যখন তার মায়া,
প্রেমের  ছায়া, বিষের ছায়া,
লাগলে হৃদয়ে বিপদ ভায়া !
আমার মতোই তখন তুমি,
স্রোতের বিপরীতে হবে বিপথাগামী,
বৈরাগ্যের শ্রেষ্ঠ মার্গের অনুগামী,
খোঁজে মহান সৃষ্টির অন্তর্যামী,
বিশ্বভ্রমণে খুঁজবে তার কায়া,
প্রেমের  ছায়া,বিষের ছায়া,
লাগলে হৃদয়ে বিপদ ভায়া!
মোহময়ী তার রূপের বাহারে,
উদ্দীপনার উন্মাদনায় যৌনসুখ সাগরে,
চর্ব্যচোষ্যলেহণ চলবে বারে বারে,
মাস কয়েক ভালোবাসার আসরে,
ঘুচবে তৃষা, বিনয়া,অনুসূয়া
প্রেমের  ছায়া,বিষের ছায়া,
লাগলে হৃদয়ে বিপদ ভায়া!

Megh

                     
                      মেঘ
                 সঞ্জিত দাস
গগনতলে লুটিয়ে মেঘের ভেলা
আগমন প্রত্যাগমন করে দিবারাত
জমাট বেঁধে দাঁড়িয়ে  একেলা
বৃষ্টিবিন্দু ঝরায় ঘটিয়ে অভিঘাত।
দিনের বেলা আঁধার হয়
বাজ পড়ে ক্ষণে ক্ষণে
পুলকিত হয় সর্ব হৃদয়
শীতল মধুর এই বাতায়নে।
মেঘের কোন দেশ নাই
 ঘুরে বেড়ায় এপার ওপার
খন্ডে খন্ডে বিভক্ত তাই
সমীরণের দোলায় গগন চরাচর।
স্থির রয় না কভু
অগ্রগতির সূচক হয়ে চলমান
ওপর হতে নিয়ন্ত্রণে প্রভু
গোধূলি আলোয় মেঘবর্ণে জাজ্বল্যমান ।

Saturday, May 25, 2019

Barthya asha

                      ব্যর্থ আশা
                     সঞ্জিত দাস
পথপানে চেয়ে রয়ো না
ওলো সুন্দরী
স্বীকারে তব তার ছলনা
আমৃত্যু বেদনাভরি
হাজারো সাথী ধরার বুকে
প্রেমস্বর্গে ভাসে
তার একটিকে নিজের এঁকে
ভালোবাসায় ভালোবেসে
সঁপে দিও জীবন হৃদয়
দিবা- নিশীথে
হয়ে যেও তার কায়
সিঁদুর সিঁথিতে
বঙ্গনারীর শাড়ি,ব্লাউজ,খোপায়
মালা বেঁধে
পূর্বপ্রেমের স্মৃতি পঙ্কের গোলায়
বাসা বাঁধে
ওরে,ও রুপসী নারী
ব্যার্থ আশা
ভাঙো,হাতে নিয়ে তরবারি
নিঃশেষ জিঘাংসা। 


Wednesday, May 22, 2019

Cricket

                   
 

                  ক্রিকেট
                  সঞ্জিত দাস
চার ছক্কা সীমানা  পেরিয়ে
উল্লাসে দর্শকদল চিৎকারে;
ব্যাট ,বল, উইকেটের সমন্বয়ে
দুরন্ত দৌড় লক্ষ্যের স্কোরে।
এগারোটি মুখ আশার ভরে
নামছে মাঠে শার্ট এঁটে,
জিতবে এরা ওদের হারে
পরিণতি কয় সর্ববিষয় অকপটে।
আম্পায়ার ওই দাঁড়িয়ে হোথা
নির্দেশিছে আপন দেহভঙ্গিমার ঈশারায়;
সঠিক হোক কি বেঠিকতা
অনড় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত শিখায়।
বাইশ গজের পিচের মাঝে
শর্টপিচ ,ফুললেনথ ,ইয়র্কার বলে
বিষম প্রহারে পরিত্রাণ খোঁজে
বল ;ব্যাটের উৎখাতে সমূলে
করতে যে চায় বল--
এক বিনা অপরে অচল
দুইয়ের মিলন সংগীতে পুলক সম্বল,
ক্রিকেটের দৌরাত্ম্য নচেৎ অম্বল!

Futbol

                


                 ফুটবল
              সঞ্জিত দাস
যুবকদের দৌড় গোলপোস্টে
উচ্চাশা একটি গোলের---
সুখস্মৃতির চিহ্ন অদৃষ্টে
আঁকতে চায় চিরকালের।
মানের ধ্বজা শীর্ষে
উঠুক যৌবন বলে,
চোখে ফুল সর্ষে
কাটূক পায়ে ফুটবলে।
পাশে ফেলে বিরোধীকে
 এগোয় লক্ষ্যে একনাগাড়ে ;
চালের হেরফের বাঁকে  
প্রতিনিয়ত ;ঈশারা গড়ে
উদ্দীপনা, অনুশাসন, একলক্ষ্যমুখীতা
তাদের হৃদয়ে  জমাটবদ্ধ,
উদ্দ্যানের সীমারেখার স্থিরতা
সঞ্চারে নবস্ফুরণ শুদ্ধ।

Kabita

                       কবিতা
                   সঞ্জিত  দাস
শব্দ,কথা,ছন্দ,
বাস্তবতা,প্রকৃতির অলিন্দ
কাল্পনিকতাও মিশেছে সাথে
তার কাঁধে  কাঁধে।
দুখ - শোক, যন্ত্রণা
তার অবগাহনের বর্ণনা;
কিম্বা গল্পের মত
ছন্দের মিলন আশ্রিত
পাতার পর পাতা
ভালোবাসা, হুংকার ,হিংস্রতা 
একত্রে জড়োকৃত মশলা
স্ত্রী, পুরুষ, বৃহন্নলা
উপকরণ সাগরসম অন্তহীন
শিখরশীর্ষে দীন, হীন
কবিতার শব্দ ছন্দে
মাতোয়ারা বাস্তব আনন্দে।

Monday, May 20, 2019

Chitrankon

                      চিত্রাঙ্কন
                   সঞ্জিত দাস
দু - এক‌টি রেখা গড়ে তোমার অবয়ব
তুলির স্পর্শে ,শেডে অসম্ভবের অস্তিত্বও সম্ভব।
রঙের লেপন অল্প হলেও,জ্বলন্ত ছবি
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিবাণের বশে জ্বলে দেহের সবই---
চিত্রপটের সৌন্দর্যই জাগায় হৃদয়ে ভালোবাসার প্রলোভন,
কেউ দেখলে তোমায় করতে চায় আপন।
চিত্রপটেই রূপলাবর্ন্যের ঝর্ণা যে যায় দেখা--
নিকটে তব আগমনে; হবে মোর সখা?
চিত্রাঙ্কনই ভরসা এখন;উপায় অন্যত্র কই?
রং,তুলিই ভরসা এখন; চিত্রপটেই আবেগের হইচই!

Somiron

                     
 সমীরণ
                    সঞ্জিত দাস
সমীরণ অমৃত জীবন্ত প্রাণের নিমিত্ত
সমীরণ ব্যতীত বসুধা শুস্কপ্রান্তর তিক্ত
কলরবহীন পরিবেশ।
ঝঞ্ঝা সুনামী মেঘের সৃজন স্থির
প্রাণবায়ুর অভাবে ভাঙ্গন অপরূপ পৃথিবীর
ধ্বংসাত্মক আবেশ।
দেহের মাঝে সমীরণের লেপন আবিরাম
অপশ্য সে দৃশ্য অমূল্য দাম
সজীবতার চমৎকার।
ঋতুচক্রের গ্রীষ্ম ,বর্ষা ,শরত,, শীত
সমীরণের অধীনে বিশ্বভুবনের হিত -বিপরীত
কর্তব্য দায়িত্বভার।

Ruposhi

                      রূপসী
                    সঞ্জিত দাস
অপূর্ব তব দেহের বাহার
শশীর চেয়েও সুন্দর--
উদ্ধত বুক, স্মিত হাসি,
হৃদয়ে উথলে পারাবার;
রজনীগন্ধার মালায় জড়িয়ে বেণী,
পায়ে নুপুর পরে,
গৌরতনু ঢেকে নীল শাড়িতে,
কঙ্কনসহ, কন্ঠে স্বর্ণহারে।
নিকটে সে লাজুক বেশে
মুখটি ঊর্ধ্বে তোলে,
আলো ঝলকের ঝর্ণা যেন
পড়ে তদা ঢলে।
সুমধুর কন্ঠ বাজায় শঙ্খ
গালভরে সমীরণ টেনে,
পুষ্পাঞ্জলি যদা হয় সমাপন
দেবতারে করজোড়ে নিবেদনে।
কামনার উন্মোচন সর্ব পুংবক্ষে
বিকাশে পিপাসার বহ্নি,
রূপসীর রূপের অগাধ সৌন্দর্য্যে
অশীথিল উত্তেজনা আসন্নি।

Sunday, May 19, 2019

Polasher bane

                  পলাশের বনে
                   সঞ্জিত দাস
তুমি আমি একাকী নির্জন
পলাশের বনে,
একে অপর্কে সঁপে বিসর্জন
মধুর গুঞ্জনে,
শাল,শিমুল, পলাশ সমীরণে
দোলায় শাখা,
দুখ - শোক নেয় টেনে
সমীরণেরই পাখা।
ওই দেখা দেয় পাহাড়
নিশ্চুপ ভদ্রতায়---
শিমুল বৃক্ষের ফাঁকে  অসাড়
অস্পষ্ট আলোছায়ায়;
পক্ষী ডেকে কিচির ..মিচির 
বাসায় ফেরে,
মস্তকের উপরে সান্ধ্য শিশির
গড়িয়ে ঝরে,
ভ্রুক্ষেপ নেই কারও প্রতি
একাকী নির্জন
বার্তালাপ, চুম্বন, যৌনসুখে সম্প্রতি
শীথিল অন্বেষণ ।
"এসো কাল আবার এসময়ে"
জানায় সখী
"কাঁকর বিছানো ঝিঁঝির আশ্রয়ে
একমুখাবয়বেই ঝাঁকি"
"পালিও না অন্যের কোলে
অন্য পলাশবনে
বাঁধনের মায়ারূপী ডোর খুলে
শিমুলবনে শালবনে"
জড়ায়ে সখীকে বাহুর বেষ্টনীতে
আলতো ঠোঁটে,
রেখে ঠোঁট, সন্ধ্যাতিক্রম জ্যোৎস্নাতে;
রসের চোটে,
"না হে না সখী
এমন ভেবোনা
তব প্রেম তরীতেই ঝাঁকি
রূপসী অপর্ণা।





Wednesday, May 15, 2019

Chumban

                       
                        চুম্বন
                   সঞ্জিত  দাস
দাও এঁকে দাও আঁখিতে চুম্বন
হে রুপসী,প্রেয়সী মুছিও ক্রন্দন।
তোমায় নিয়েও সারাজীবন করব সহবাস
হে রুপসী,প্রেয়সী রেখো বিশ্বাস।
তব চুমে শ্রান্ত দেহে বিশ্রাম
হৃদয়ে নেশা,সরস ঠোঁটের রসজাম।
চুমে চুমে ভরিয়ে দিও হৃদয়--
যদা আমি আকীর্ণ বিপদ আশঙ্কায়!
স্নেহে মা যেমন এঁকে দেয়
তেমনি করিয়ে দিও; বৃথা বিস্ময়
এনো না ডেকে চুম্বন মাঝে,
দেহে চুম্বন চিহ্ন সকাল --সাঁঝে।

Pratush

                প্রত্যুষ
              সঞ্জিত দাস
কিচ্চি - মিচির কিচির মিচির
পক্ষী বৃক্ষশাখে বসে ডাকে;
নব প্রত্যুষের আলোয় শিশির
ঝলমলিয়ে ওঠে; মোরগও হাঁকে
কোঁকর কোক, কোঁকর কোক,
সমীরণের দোলায় দোলে বৃক্ষশাখাসমূহ ,
উবে যায় সব দুখশোক,
গড়ে ওঠে সতেজ আবহ
শয়ন ফেলে,দ্বার খুলে,
দাঁড়িয়ে রাস্তায়,প্রকৃতির মাঝে
ঘুমভাঙা চোখে,আড়মোড়ায় হেলে
হৃদয়ভরা সৌন্দর্য্যে মোহময়ী সাজে
বিহ্বলিত মানুষ;একাকী ,নির্জন,
সবুজে ভরা ক্ষেতে হাঁটে
প্রাণে নব স্ফূর্তির সৃজন
প্রত্যুষের আবছা আলোর ছটে।

Monday, May 13, 2019

Hasi

                   
                         হাসি
                   সঞ্জিত দাস
হে প্রিয়ে,
অর্থ খুঁজে মরি চারিধারে--
স্বল্প সুখাশ্রয়ে,
বাঁচতে চাই ধরণী সাগরে--
একটু আশা,
হাসির বেশে আসুক সেজে
কাটুক কুয়াশা,
হাসির ঝুঁড়ির ঘন্টা বেজে;
অর্থই প্রধান
বাঁচতে -মরতে বাস্তব সমাজে
এটাই বিধান
বৃথা সময়ের অপচয় কাজে,
অনর্থক যা
বিনষ্ট হোক আজ তা
হাতের হাজা,
কিম্বা হোক সে সংসাজা,
হাসি আসুক
ঠোঁটের কোণে ,অর্থের বশে,
হৃদয় ভাসুক,
হাসি হাসি ভরপুর রসে।

Saturday, May 11, 2019

Upekkha

                     
                      উপেক্ষা
                   সঞ্জিত দাস
নিগূঢ় ঘনিষ্ঠতার মুহূর্তগুলি ফেলে
চললে কোথায় ঘোমটা খুলে?
 বলবে না বুঝি আমায়?
ভ্রমণের স্বপ্নপূরণ আপন ইচ্ছায়!
আমি আজ বুঝি শূন্য ?
তোমায় রেখেছি বুঝি অপূর্ণ?
বললে না যে কিছুই
চললে  নাকি বিদেশ বিঁভুই
নারী স্বাধীনতার তোয়াজ পেয়ে।
আঁধারে কন্টকসম ভালোবাসার আশ্রয়ে
স্থান দিলে বুঝি উপেক্ষায়?
বাটি হাতে পথে ভিক্ষায়!

Friday, May 10, 2019

Jhotsnar aloy

                জ্যোৎস্নার আলোয়
                      সঞ্জিত দাস
                (১)
মায়াবী শশীর সোনালী আলোয়,
শীতল সমীরণের মৃদু দোলায়,
নীশিথের সেই মধুর স্মৃতি
আঁকি আমি আজকে বীথি--
আভিমান হৃদয়ের অশান্তিই কাম্য
শীথিলতার উন্মোচনে হোক সাম্য।
                     (২)
জ্যোৎস্নার আলোয় নদীর কূলে
দুলছিলাম বিজনে প্রেমের দোলে
বন্ধনহীন সে অপার অনুভূতি
সঞ্জীবনীসম শুশ্রুষারুপী আরোগ্যের সাথী
বৃক্ষের সমারোহ নদীর চারপাশে
স্থিরকায় বৃক্ষ তখন হাসে
প্রেমিক -প্রেমিকার নৃত্যের চিত্রপট
দর্শনের সাক্ষী বৃক্ষ,আকাশপট
নক্ষত্রের দ্যুতি হয়েছে বিলীন
সোনালী জ্যোৎস্নাই হয় সমীচীন
তনু ঘর্ষণের সুগন্ধের ঘ্রাণ
চিরন্তন হৃদয়ে লাফায় অম্লান
বেদনার বোঝা অফুরন্ত,অসীম
আমার অদৃষ্টই আজ বঙ্কিম! 


Wednesday, May 8, 2019

Jonmobhumi

                     জন্মভূমি
                     সঞ্জিত দাস
তব ক্রোড়েই জন্মেছি,এই ভবে,
ভূমিষ্ঠ হতে আমৃত্যুকাল,রসনায় ডুবে,
সতেজ সমীরণ,শস্যশ্যমলা ক্ষেতের মাঝে,
তপনের কিরণ ঝলমলিয়ে প্রাতে-সঁাঝে,
নদ বয় একাকী,সর্পিল গতিপথে --
স্বপদে দঁাড়িয়ে তব মাতৃদুগ্ধের বক্ষেতে;
বিছায়েছ চারিধারে সৌন্দর্য্য, হে রুপসী----
তব ক্রোড়ই স্বর্ণখনি,সর্বেরই প্রেয়সী।
তব স্নেহ,প্রেম রবে আমৃত্যুভরি।
তোমারে কহিতেছি,তব ক্রোড়ে ফিরি---
যত্র, কৃত্রিম প্রস্তর পাঁজর গড়ে -----
তত্র, মিশিও না জনতার ভীড়ে----
কলঙ্কের ছয়লাপ যত্র দেয়নি হাতছানি,
শহরের আস্তাকুড়ের জড়োকৃত শিরা -ধমনী। 


Ajker sikkha

                    আজকের শিক্ষা
                       সঞ্জিত দাস
 তোমরা পড়ো,
যত পারো পুঁথির তথ্য কামড়াও;
কেরিয়ার গড়ো,
নিংড়ে নিংড়ে মস্তকের ঘিলুতে সাজাও;
প্রশ্নপত্র পড়ো,
হাজারো জমানো তথ্যরাশির করো বমি;
উত্তরপত্রে জোড়ো,
প্রতিভা দেখাও নম্বরের গুনাগুণে তুমি;
চাকুরী আনো,
স্ব - স্বার্থ বুঝে আরামে করো হিল্লোল;
হিংসায় হানো,
একে অপরের প্রতি,আনন্দ বিফল;
প্রতিভা হাসে,
নম্বর নিয়ে কাড়াকাড়ি,ঝগড়াঝাঁটি,সীমানাহীন;
নম্বরের করালগ্রাসে,
নম্বরই বাছে মোরে,আমি দীন;
কদর নাই,
প্রকৃত যোগ্যতার তরী  ডুবেছে দরিয়ায়;
চলে যাই,
নম্বরই আসুক অঙ্গনে,প্রতিভা নিরুপায়! 




Friday, May 3, 2019

Vote

       
ভোট
           সঞ্জিত দাস
ভোট দিতে যায়
ভোট ভোট
রাঙাবৌদি লিপিস্টিকে রাঙিয়ে
ঠোঁট ঠোঁট 
রান্নাটা সেরে রেখে
চল চল
দিয়ে আসি ভোট 
চল চল
গণতন্ত্র বানাই আজ
নূতন নূতন
দেশের মঙ্গলার্থে যার
আগমন আগমন
আমাদের বোধ আজ
খুলেছে খুলেছে
যা ছিলো ভ্রান্ত
ধুয়েছে ধুয়েছে
রাঙাবৌদির হাসিমুখ আজ
রেঙেছে রেঙেছে
দুর্বল স্বার্থপিশাচের দল
হেরেছে  হেরেছে
আসবে নূতন আলো
আকাশে আকাশে
হাসি আসে ভেসে
উল্লাসে উল্লাসে
জয়ধ্বনি ড্রাম বাজে
বিকটে বিকটে
সবুজ আবিরে নৃত্য
নিকটে নিকটে
মিস্টি বিতরণ উৎসব
ফটকে ফটকে
মরণ নিকটে আজ
মড়কে মড়কে
আজ না হলেও
আসবে আসবে
পরাভূত হবে মানুষ
ভাসবে ভাসবে
অশ্রুসজল হৃদয় ব্যথিত
আবেগে আবেগে
অর্থনীতি দেউলিয়া হবে
দ্রুতবেগে দ্রুতবেগে
হাজারো বুভুক্ষু পেয়েছিল
সান্ত্বনা  সান্ত্বনা
মিলবে আশা ভরসা 
কামনা কামনা
স্বপ্ন ভেঙেছে  আজ
আপনা  আপনা
নিগূঢ় বিশ্বাসে অপরে
আগায় আগায়
আশা অনুভূতি মোচড়ে
নিংড়ায় নিংড়ায়
তোমারা নাগরিক ভাবো
সঠিক  সঠিক
দায়িত্বে ভুবন গড়ো
স্ফটিক  স্ফটিক
জঞ্জাল সরিয়ে দাও
ঝাঁটিয়ে ঝাঁটিয়ে
ভদ্ররূপী সাজধারীদের বিদায়
চাবকিয়ে চাবকিয়ে
প্রত্যহ খবরের কাগজে
হেডিঙে হেডিঙে 
গুপ্তাগারে অর্থ রাখছে
 সরিয়ে সরিয়ে
এ কোন গণতন্ত্র ?
মানিনা মানিনা
অধিক ভালো ইংরেজ 
কামিনা কামিনা !






Rajneeti

                        রাজনীতি
                        সঞ্জিত দাস

দরকার নেই যোগ্যতা, আছে মোর ক্ষমতা।
 আমি হলাম দেশনায়ক,আপামর দেশবাসীর রাজনেতা !   

বৃহৎ স্বার্থ অর্থলোভ ,যমের ন্যায় তাড়ায়। 
দ্বন্দ্ব, কোলাহল, হানাহানি একদল আপরকে হারায়, 

শুভকর্মের সমাধা,না কর তার আশা---
 যাকেই যেতাও; কভু মিলবে না ভরসা! প্রবঞ্চিত,লাঞ্চিত,পদদলিত হবে দেশবাসী  অনবরত 
গণতন্ত্রের জঞ্জালে বিভীষিকার বহ্নির দাপট অবধারিত ;

খুঁজছে দেশবসী ভালোবাসা,শান্তি,ঐক্য,সহানুভূতি, 

দেশের মজ্ঞলার্থে  জনগণ করে করজোড়ে মিনতি।

Kadar

                           কদর

                      সঞ্জিত দাস

কদর যারা করতে জানে না
তাদের বলে লাভ কি?
   স্ব-স্বার্থে  যে ডুব দিয়েছে,
আপনারে শ্রেষ্ঠ শিখর ভেবেছে,
পরোপকারে বারংবার আঘাত হেনেছে,
নিষ্ঠূরতার শ্রেষ্ঠ আসন লভেছে,
তত্র খোঁজ সুখ কী?
কদর যারা করতে জানে না
তাদের বলে লাভ কি?
পাশে দাঁড়ানোর মূল্যবোধ, মানসিকতা
বিদ্ধস্ত;পদে পদে হিংস্রতা
হায়!রে আমার বিধাতা
মানবের পরাজয়ে, জয়ী বনলতা
শেখায় সে প্রেম কী?
কদর যারা করতে জানে না
তাদের বলে লাভ কি?
জড়িয়ে বৃক্ষশাখে উর্দ্ধপানে তরতরিয়ে
লতার বাহার ছড়িয়ে ছিটিয়ে
জীবিত সে বৃক্ষরসের বিনিময়ে
স্বল্প রসেই তৃষা ভরিয়ে 
দেখায় সে আদর কী?
কদর যারা করতে জানে না
তাদের বলে লাভ কি?

Basanta

                 

                    বসন্ত
                 সঞ্জিত দাস

দ্যাখ রে তোরা,প্রকৃতির শোভা অপরূপ
শাখে শাখে নবপল্লভ বিস্তারিছে হিল্লোলে পুর্বানুরূপ.।
রোগ- ব্যাধি, জীর্ণতা, দূর হইয়াছে আজ,
শুষ্ক শাখায় সবুজ নবপত্র পরিয়াছে পোশাকরুপী সাজ।
সমীরণের কোমল দোলা দেহে ভরে প্রাণ,
নবীন আলোর আশার মাঝে নাই পিছুটান।
হৃদয় উথলেছে, আবির রঙে, এই ফাল্গুনে,
বিবর্ণ মুখ রাঙিয়াছে অদ্য পুলক অঙ্গনে।

Didi

                        দিদি
                     সঞ্জিত দাস
   (উৎসর্গিত---আমার দিদিকে)

একাকী গৃহে লাগে বিরক্ত
হৃদয়ে সঞ্চিত কথাগুলি অপ্রকাশিত,
বলব কাকে?খুঁজি চারিধারে
দিদিকেই বলি খোলসা করে,
হাসি,দুঃখ, মজার সম্ভার
অনর্গল আবেশে উন্মুক্ত বারংবার,
বিষাদ মাঝে খুঁজি আশ্রয়
যার নিকট সান্ত্বনার বিনিময়। 

Sneher bandhu!

                   স্নেহের বন্ধু!
                    সঞ্জিত দাস
বন্ধু নামক মুখোশধারী শত্রুদল
বাস্তব প্রেক্ষাপটে ভরসা বিফল
স্বার্থপর, পিশাচতুল্য,নরাধমের প্রলোভন
দিনান্তে দ্রুতগামী তার আস্ফালন
প্রয়োজনে হস্তে তৈল টিন
লেপন চারপাশে যে উচ্চপদাসীন
হাসিমুখের প্রসারণ,বৃহৎ দিগন্তব্যাপী
স্ব -স্বার্থের নিবৃত্তিতে, নির্দোষ,নিষ্পাপী
হে পাষণ্ড, শূকরসম বন্ধু!
সঙ্গোপনের সঙ্গদাতা,কাপুরুষ চন্দু! 

Thursday, May 2, 2019

Mitinmasi ....ador korbe na?

       

মিতিনমাসি... আদর করবে না?
                   সঞ্জিত দাস
                (ছোটদের জন্য)
মিতিনমাসি..মিতিনমাসি... একটু
আদর করবে না?
কাঁচের গ্লাস ভেঙেছি,
তাই পা ধরেছি,
নিজের কান মুলেছি,
আর করব না---
মিতিনমাসি..মিতিনমাসি... একটু
আদর করবে না?
আমি এখন বাচ্চা,
ভুলই লাগে আচ্ছা,
মনটি আমার কাঁচ্চা,
মানিয়ে নিও না--
মিতিনমাসি..মিতিনমাসি... একটু
আদর করবে না?
রূপকথার আমি ভক্ত,
পড়ার বই শক্ত,
তাই মা ক্ষিপ্ত,
মাকে বুঝিয়ো না---
মিতিনমাসি..মিতিনমাসি... একটু
আদর করবে না?
খেলতে চায় মন,
দিন -রাত সর্বক্ষণ,
টান যে ভীষণ,
কেউ শোনে না---
মিতিনমাসি..মিতিনমাসি... একটু
আদর করবে না?
মাসি তুমি ভালো,
দুঃখের মাঝে আলো,
পোশাক পরাও জমকালো,
তোমায় মারব না--
মিতিনমাসি..মিতিনমাসি... একটু
আদর করবে না?





Paromanu

পরমাণু
সঞ্জিত দাস

পরমাণুর সজ্জায় সমগ্র বাতায়ন
বর্তিছে আপন দম্ভ আধিকার,
ক্ষণিকের তরে বিবর্ণ অপমান
যুদ্ধের বাতাবরণে ধূলিসাৎ সংসার,
জণগণ বিরত,অজ্ঞাত,প্রাণখোলা
ভবিষ্যৎ কি রেখেছে আর্জি?
  সৈন্যদেহের তৃষা মেটায় যুদ্ধজ্বালা,
পরমাণুর বিভীষিকার তিতিবিরক্ত ঝাঁঝি!
লক্ষ লক্ষ মানুষ অভুক্ত
পরমাণুর আশীর্বাদে অশেষ কৃপায়!
যদিচ হানে,মানবরক্ত ধূলাসিক্ত
হিরোশিমা,নাগাসাকি দৃষ্টান্তস্বরূপ পূর্ণকায়ায়
আজও অমলিন ক্রন্দন বিদ্ধংস
জাপানির প্রতি কোশ অঙ্্জ্ঞাণুতে
হৃদয় বেদনায় আকীর্ণ, নৃশংস 
নাশকতার ধ্বজাধারী আমেরিকার পরমাণুতে।
শ্রেষ্ঠত্ব বিচারে এদেশ- ওদেশ
শিখরশীর্ষে স্থান লভিতে নিমজ্জিত
সর্বদেশ,অষ্টাদশ কি একবিংশ
সর্বকালীণ , যুদ্ধের বাতাবরণ অনাকাঙ্ক্ষিত
জীবন, যুদ্ধে হস্তের মোয়া
পরাজিত সে নতমস্তকে চরণে
মূল্যবোধ, মানবপ্রেম শুধু ধোঁয়া
জীবনমূল্য,ভালোবাসাবাসি রক্তিম আভরণে!

Pratibadi kantho

প্রতিবাদী কন্ঠ
সঞ্জিত  দাস

ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
যাহার যেরূপ মর্জিই হউক
ঢেকে নিও নিজ দুখ-শোক,
ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
তোষণনীতি দাপট রাখিছে সর্বত্র
কহিলে গলাধঃকরণ, আঁধাররূপী গর্ত
ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
হাজারো নিষ্পাপ সরল কন্ঠ,
প্রতিবাদের উত্তাল স্রোতে লন্ডভন্ড,

ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
বিপদে সর্বে পিছু হঁাটিবে,
প্রতিবাদী কন্ঠ নিষ্পেষিত, ফঁাসিবে,
ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
শত্রুদল হাসিবে খিলখিল পশ্চাতে
ক্রুর হাসি; আমোদের সমুদ্রসৈকতে-
ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
মৃত্যুর পদধ্বনি যাইছে শোনা--
প্রতিবাদী কন্ঠের অকালপ্রয়াণ আসন্না!
ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
আমি শিকার প্রতিবাদী কন্ঠের --
আমি চক্ষুশূল, ভন্ডদের বিপর্যয়ের-----
ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!
পশ্চাতে যাহারা জোগাইছে ইন্ধন,
স্বীকারিছে কভু,সহমত কথন?

ভুল ধরাইও না,বন্ধু !
ভুল ধরাইও না!



Preyosi

                 
                          প্রেয়সী
                     সঞ্জিত দাস

আমি তোমার প্রেমে নিমজ্জিত 
তোমার বাহুবন্ধনের আসক্তিতে আসক্ত,
হাসি ভরা মুখ নিয়ে,
দেহভরে মিস্টি সুবাস লয়ে,
আসো মোর নিকটে যখন,
মনে হয় দেখছি স্বপন
দু আঙুলে কেটে চিমটি
ফিরিয়ে  দাও বাস্তবতার দৃষ্টি
তোমার দেহের করি বর্ণন
মনের মাঝারে অরূপ রতন্
মুখখানি তোমার নীশিথের চন্দ্রপ্রভা, 
কেশগুলি হৃদয়ের উদবেলের আভা,
ঠোঁটটি সরস,প্রেমের মধুরস
আঁখিতে শান্তি,ঠান্ডা কলস
অপ্সরেরা পরাজিত তোমার নিকট
মিস্টির গোলা,নয় টক
বাহুডোরে তব রব চিরন্তন
যদিচ হানে মৃত্যুর আগমন ।

Prem prarthona

                        

                        প্রেম প্রার্থনা
                         সঞ্জিত দাস 
ওহে
বর্ণা, পর্ণা ,ঝর্ণা,সুপর্ণা
কহে
যেয়ো মত তব মনোহর্ণা;
বাধিব 
স্বর্ণপিঞ্জরে মুড়িয়া স্বর্ণ গহনা ;
যুঝিব
তোমার লাগি,ঝরুক রক্তঝর্ণা;
অভিভূত
 তব সৌন্দর্যে দিবা -রাতি  স্বপ্না,
কহে 
যেয়ো মত তব মনোহর্ণা;
সহে
 রব আমৃত্যুভরি সর্বব্যাথা যন্ত্রণা,
রেখো
 না ঢেকে তব ভাবনা ,
মেখো 
মোর হৃদয়ের গহীন কামনা ,
দিও
 মত প্রাণখুলে ওহে অপর্ণা,
রাঙিও
নিশীথের আঁধারে সোনালী জ্যোৎস্না,
পঙ্কের 
সলিলে নিমজ্জিত করিও না,
শঙ্কের
বঁাধ ভেঙ্গে সাজিও চুম্বনবন্যা;
বহে

সমীরণ একাকী ওহে অনন্যা,
কহে 
যেয়ো মত তব মনোহর্ণা;
আশা
 লয়ে বুকে,নিবেদিছি প্রার্থনা
ভালবাসা
 জয়ী কি ওহে নিদ্রাহর্ণা?

kaloho

                         কলহ
                      সঞ্জিত দাস

তোমাতে আমাতে ভিন্ন মত

সুর্পিল আকৃতির এই গতিপথ,
থামে না কভু,চলে--
গুঞ্জন উত্তীর্ণ বিকট কোলাহলে,
পায়ের ওপর পা তুলে
রাঙিয়ে চোখ,রেগে ফোলে
দেহ,মন সর্ব অঙ্গ
একের পর এক অনুষঙ্গ
ভিড় জমায় উত্তপ্ত শোণিতে,
ভয়ানক অবস্থা শেষ পরিণতিতে।
রক্ত ঝরে,ক্রন্দনও হয়
মৃত্যু  কি বাকি রয়?
লালরক্ত হৃদয়ে আনে প্রশান্তি!
তার স্পর্শে চুকেবুকে অশান্তি!
কোথা হতে কোথা যায় ;
বন্ধন অসম্ভব কোনও সীমানায়
জাপ্টে ধরে চুলের গোছা,
পরিত্রাণ ভ্রমণে,বিপদের বোঝা
নিষ্কৃতি  নেই তখন কারও
কলহ ক্রিয়ায় সর্বজনে মরও
কলহ হতে হও বিরত,
লাগিও না দেহে ক্ষত;
একত্রে সব সুখে রহ
'কলহ করিব না' কহ ।



Wednesday, May 1, 2019

Surer Tane

                      সুরের টানে
                      সঞ্জিত দাস

সুরের টানে অন্যপথে
যাও চলে যাও,
বিষাদের বিসর্জনের শপথে
কান এগিয়ে দাও
শোন সুর আনন্দের
দুখতলে ভরো পাথর
বিদায়  দিও মন্দের
ভালোর গড়ো আসর
জীবনস্রোতে বহু ব্যাথা
হঠাৎ চলে আসে
সঙ্গোপনে ঢেকো তা
সুরের স্রোতে ভেসে
ভাটিয়ালি কি বাউল
কিম্বা হোক রবীন্দ্রসংগীত 
বাষ্পীভূত দুর্গন্ধের ঝুল
পরিস্কারে হোক হিত
একাকি ক্ষোভে প্রজ্জ্বলিত 
বাস্তবের চড়া রোদ্দুরে?
সুরের অবগাহনে আবৃত 
হয়ে নির্জন সমুদ্দুরে।
যাও চলে যাও
সুরের টানে অন্যপথে
হৃদয়ে প্রেম জাগাও
আসন্ন নূতন সুপ্রভাতে।



Ma

                           মা      
                     সঞ্জিত দাস                       

একটি  ছোট্ট নাম,.
                           
 বিশাল তার ব্যাপ্তি ,আমূল্য তার দাম।.
                        
 অক্ষত এই বিশ্বচরাচর     

প্রবাহমান জীবন দানে তুলনাহীন প্রাণপ্রস্তর;          
      
মাতৃজঠর  অমূল্য রতন,                            সন্তানের মুখে  মা ডাক নারীর  স্বপন;   
            
সন্তান ধারণে উদর প্রসারিত--                                             সর্ব যন্ত্র‌না তুচ্ছ জ্ঞানে,হোক নিমিত্ত।                              মুখে ফোটে হাসি,   
                                               
শিশুর ক্রন্দনের কলরোলে, মাতৃহৃদয় পুলকে ভাসি,  
                                                  
শিশুর পানীয় মাতৃ দুগ্ধ;   
                         
যা সবজি  ফল অন্নের সমাহার শুক্ত